Posts

গুলাবো সিতাবোঃ হাসির আড়ালে লোভ, হিংসা আর ক্ষয়িষ্ণু ঐতিহ্যের আলোড়ন

Image
ছবির নাম- গুলাবো সিতাবো পরিচালক- সুজিত সরকার অভিনয়- অমিতাভ বচ্চন, আয়ুষ্মান খুরানা, সৃষ্টি শ্রীবাস্তব, বিজয় রাজ, ব্রিজভূষণ কালা রেটিং- ৩.৫/ ৫ ধিমে তাল, বেশ খানিকটা ধৈর্য, এবং না-বলার মধ্যে বলাগুলো শোনার প্রবণতা থাকলে গুলাবো সিতাবো আপনার জন্য। অপরদিকে, ট্রেইলার দেখে যদি মনে করেন যে গল্পটা বাড়িওয়ালা-ভাড়াটের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে একটা চটুল গল্প, তবে একটু আশাহত হবার সম্ভবনা আছে। সেভাবে বলতে গেলে এই ছবিতে বলার মতো কোন গল্প নেই, ফ্রেমের পর ফ্রেম রেখে যেন সাজানো হয়েছে একটা জীবন, যেমনটা সুজিত সরকার তার সমস্ত ছবিতেই সাজিয়ে থাকে। এক কথায় বললে এটি কিপটে বাড়িওয়ালা এবং তার খিটকেল   ভাড়াটের গল্প, যেখানে ঝগড়া আছে, রাগ আছে, হিংসা আছে, আর ভীষণভাবে আছে লোভ। সুজিত সরকারের নির্দেশনা আর জুহি চতুর্বেদীর চিত্রনাট্য একটা আলাদা ম্যাজিক তৈরি করেছে সারা ছবি জুড়ে। ডায়লগে মজা আছে, একে অপরের প্রতি শ্লেষ আছে, আর আছে প্রতিনিয়ত ফুরিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর তীব্র আকুতি। ছবির প্লট আঁকা হয়েছে লক্ষৌয়ের মত একটা শহরে যার সমস্ত অলিগলি জুড়ে রয়েছে একটা রাজকীয় সময়ের স্মৃতি, এবং সেই স্মৃতির ধ্বংসস...

দ্বিতীয় পুরুষঃ টুইস্টের চাপে হাঁসফাঁস করছে গল্পের লজিক

Image
Image Source: Google ছবির নামঃ দ্বিতীয় পুরুষ পরিচালকঃ সৃজিত মুখার্জি অভিনয়েঃ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, রাইমা সেন, গৌরব চক্রবর্তী রেটিংঃ ৩/৫ ' কনফিডেন্স ভালো , তবে ওভারকনফিডেন্স একেবারেই ভালো নয়। ' শেষ দৃশ্যটা দেখার পর মনে মনে ঠিক এই কথাটাই বললাম। কেন বললাম আসছি তার কথায়। তবে , বেশি বললে যে ফুরফুর করে স্পয়লার বেড়িয়ে আসবে। ছবির প্লটটা মোটের ওপর এরকমই - সেই বাইশে শ্রাবণের জুনিয়র অফিসার অভিজিৎ পাকড়াশি ( পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ) এই ন ' বছরে পুলিশ হিসাবে বেশ জাঁকিয়ে বসেছে। সিরিয়াল কিলিংয়ের প্রায় অথোরিটি হয়ে বসে আছেন তিনি। কিন্তু তার পারসোনাল লাইফের কোন উত্তরণ ঘটেনি এই ন ' বছরে , বরং অবতরণ বললে ভুল হবে না। তবে সেন্স অফ হিউমারটা বেশ বেড়েছে। নয়তো দাম্পত্য কলহের মাঝে মাঝে কেউ পানিং করে ? বাংলার ভাষার প্রতি প্রেম আর সাহিত্যের প্রতি টান বাড়ার একমাত্র কারণ তার গুরু প্রবীর রায় চৌধুরী ( প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বাইশে শ্রাবণ ) এটুকু স্পষ্ট। একদিন এই পাক...

এমিলিঃ টুকরো থেকে খুঁজে নেওয়া জীবন

Image
কিচ্ছু না বলার মধ্যেও অনেককিছু বলা থাকে। এই জীবনটাই আসলে একটা চলমান গল্প। আলাদা করে গল্প খুঁজতে যাওয়ায় আর নতুন কিচ্ছু পাওয়া থাকে না। যেমনটা বহুদিন আগে আমার খুব পছন্দের একজন মানুষ হাসিচ্ছলে বলেছিল "জায়গা ছেড়ে দেওয়ার মধ্যেই থাকে অনেকখানি জাগয়া"। সেইরকম জীবন থেকে গল্প খুঁজে নেওয়ার মধ্যেই থাকে সেই উন্মাদনা। কল্পনার জগত কতটা বিস্তৃত হতে পারে? কতটা তাতে ডুবে গেলে বাঁচা যায় প্রতিটা মুহূর্ত তার পরিমাণ করা বড্ড কঠিন। কতটা আকুতি থাকলে একজন তার চারপাশের প্রতিটা মানুষকে নিয়ে ভাবে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এমিলি। প্যারিসে তখন সত্তর দশক। কোনোএক ছোট্ট শহরের মেয়ে এমিলি। মেয়েটা বড় অদ্ভুত। এবং তার জীবনের ছোট ছোট দুঃখগুলো আরো অদ্ভুত, কখনো হাস্যকর। তবে, এটাই তো জীবনের গল্প। একের দুঃখ যে বরাবরই অন্যের হাসির খোরাক হয়ে এসেছে। যাই হোক, মেয়েটার এক অত্যাশ্চর্য ক্ষমতা আছে। যা কেউ দেখতে পায় না, তাই যেন দেখে মেয়েটা। যৌন উত্তেজনার চেয়ে পথ চলতি দোকানের সামনে রাখা চালডালের বস্তায় হাত ঢুকিয়ে দেওয়াতেই তার বেশি আনন্দের। যখনকার কথা, তখন রাস্তায় রাস্তায় বসানো থাকতো টেলিফোন বুথ, টেপ রেকর্ডারে জমানো হত তথ্য...

এথিক্স ও দায়বদ্ধতার মুখোশের নিচে আমরা সবাই জোকার

Image
হাসি বড় শ্লেষের, কোথাও বা বিষাদের। সমস্ত মানুষ তার জীবনটাকে দুবার বাঁচতে চায়। একবার মনে মনে, ঠিক যেমনটা তার স্বপ্ন, আর একবার বাস্তবে। কিন্তু যাদের স্বপ্নপূরণ হয় না, তাদের বাস্তবটা কি একই রকম হয়? জোকার সিনেমাটা দেখতে দেখতে এই কথাগুলোই মাথায় ঘুরছিল। প্রথমেই বলে রাখি কোনো কমিকবুকের চরিত্রের সাথে মেলাতে গেলে নতুন কিছু এক্সপোর করা যাবে না, তবে দেখার আগে প্লট এবং সময়টা একটু জেনে নিতেই হবে। নয়তো জোকারের জন্ম রহস্যে অনেক প্রশ্ন উঠবে। আচ্ছা, এবার যদি একটু দূরে সরে এসে পাখির দৃষ্টিতে দেখি, মানে ভুলে যাই এই ক্রিমিনাল অধ্যুষিত গথাম সিটি, আরখাম স্টেট হসপিটাল, থমাস ওয়েন বা আর্থার ফ্লিককে, তাহলে হয়তো পরিস্থিতির মুখে আমি আপনি সবাই আস্তে আস্তে জোকার হয়ে উঠতে পারি। জোকারকে যদি ডার্ক ক্যারেক্টার বলে ব্রাত্য করা হয় তাহলে সমাজের প্রতিটা মানুষই ব্রাত্য। আসলে, জোকার কোনো চরিত্র নয়, একটা জার্নি। ধরুন, আপনি এমন একজন মানুষ যার উপস্থিতি কিম্বা অনুপস্থিতিতে কারো কিছু যায় আসে না, অথচ আপনারও তো একটা মন আছে, মনে মনে কিছু একটা হয়ে ওঠার স্বপ্ন, একটা প্রতিষ্ঠিত মুখ হয়ে ওঠার ইচ্ছা। এরকম এক পরিস্থিতিতে আপনি ...

কবীর সিং- “টক্সিক ম্যাসকুলিনিটি”-র আড়ালে চাপা পরা চরিত্রায়ন যা আশার আলো দেখায় না

Image
কবীর সিং অভিনয়ঃ শাহিদ কাপুর , কিয়ারা আদবানি। পরিচালনাঃ সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা রেটিং- ২.৫/৫ প্রথমে আসে পেট্রিয়ার্কি , তারপর আসে প্রচণ্ড পেট্রিয়ার্কি। সবশেষে আসে কবীর সিং। ফেমিনিস্ট বলে গালাগাল দেবেন তো ? তার আগে একটু গল্পটা শুনে নিন। একজন স্মার্ট , মেধাবী , ডাক্তারির ছাত্র সর্বগুণ সম্পন্ন , কিন্তু অ্যারোগ্যান্ট , রুড। সে প্রেমে পড়লো এক জুনিয়ার স্টুডেন্টের। নাম তার প্রীতি সিক্কা। পড়লো মানে মেয়ে সিলেক্ট করে প্রেমিকা হিসাবে ঘোষণা করলো। সেই মেয়েও আপত্তি করলো না , চরম প্রেম করলো , পটাপট কয়েকটা চুমু খেলো। তারপর , বাড়িতে জানাতে গিয়েই হল বিপত্তি। প্রেমিকার বাড়িতে মানলো না , এবং অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেলো , আর প্রেমিক কবীর সিং মদ , মেয়ে , আর সিগারেটে ডুবে গেল। যখন প্রেমিকার সাথে দেখা হল তখন সে একা ও সন্তানসম্ভবা । সবশেষে প্রেমিক-প্রেমিকার মিল। আজকাল ভারতীয় সিনেমার এই উন্নতির দিনে এই রকম গল্প ঠিক পাতে দেওয়া যায়না। এবার আসা যাক সিনেমার লজিক্যাল পয়েন্টে। ভারতীয় উপমহাদেশে স্টকিং , ইভটিজিং এমন কিছু বড় কথা নয় , তবে তাকে সিনেমার মাধ্যমে গ্লোরিফাই করাটা বোধহয় কোন কাজের কথা ...

হাকুনা মাটাটাঃ জগৎজোড়া আনন্দযজ্ঞের ঠিকানা "দ্য লায়ন কিং"

Image
Image Source: Google "রাজা", একটা ছোট্ট শব্দ, যার মধ্যে লুকিয়ে থাকে সংগ্রাম, বুদ্ধিমত্তা, দায়িত্ব, এবং যুদ্ধ। গল্পটা যখন এক অতি পরিচিত আফ্রিকান উপকথায় আর রাজা যখন খোদ কেশরধারী সিংহ কোথাও যেন তার গভীরতা আরো বেড়ে যায়। "দ্য লায়ন কিং" শুরু হয় সিম্বার জন্ম আর রাজা হবার সুশিক্ষা দিয়ে। সুশিক্ষাই বটে। বাবা যখন মুফাসা তা তো হবেই। আর সেখানেই তো ঝামেলা। একদিকে শেখানো হচ্ছে রাজার দায়িত্ব, সহনশীলতা, শক্তির সঠিক প্রয়োগ, অন্যদিকে স্কার ছল-চাতুরী দিয়ে হতে চাইছে রাজা (?)। বাকিটা সবার জানা, দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন দিয়ে শেষ হয় সব দেশের সব উপকথারা। প্রথমেই স্বীকার করছি হিন্দিতে দেখে একটা বড়সড় ভুল করে ফেলেছি। ঠিক যেন মনে হচ্ছিল বিরিয়ানি খাচ্ছি মাঞ্চুরিয়ান সস দিয়ে। তবে, এও বলবো ভয়েস ওভারে সব তাগড়া তাগড়া লোক থাকাতে চরিত্রের সাথে খুব একটা ইনজাস্টিস্ট হয়নি। স্কারের চরিত্রে আশীষ বিদ্যার্থী, জাজুর চরিত্রে আস্রানি আর মুফাসার চরিত্রে সাহরুখ খান বেশ মানিয়েছে, কিন্তু রাজা মুফাসা আর একটু ঝাঁঝালো হলে ক্ষতি হতো না। ইংলিশের মুফাসা যখন নাছোরবান্দা সিম্বাকে শাসন ক...

আর্টিকেল ১৫- সামাজিক কদাচারের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা এক শক্তিশালী হাতিয়ার

Image
Image Source: Google সমাজ একটা বড় সিস্টেম । সেই সিস্টেমে কেউ রাজা , কেউ প্রজা , কেউ সিপাহী । কিন্তু সমস্যা হয়ে যখন এই এত বড় কর্মকাণ্ডের মধ্যে যদি এমন কেউ এসে পড়ে যে এই রাজার রাজতন্ত্রকে ভাঙতে চায় । এমনই এক পরিবর্তন আনার গল্প আর্টিকেল ১৫। ঝাপসা, স্যাঁতস্যাঁতে একটি দলিতদের (?) গ্রামের দৃশ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই ছবিটি প্রথমেই বুঝিয়ে দেয় এখানে এমন অনেককিছু দেখতে চলেছি যা আমাদের নতুন ডিজিটাল ইন্ডিয়ার মানুষেরা একটা সো কলড মিথ বলে মনে করি। গল্পটি চ ট করে বললে এই দাঁড়ায়- তরুন আইপিএস অফিসার  আয়ান রঞ্জনের (আয়ুষ্মান খুরানা) পোস্টিং  হয় উত্তরপ্রদেশের এক অজ পাড়াগ্রাম লালগাঁওতে। দিল্লিতে থাকা নিউ ইন্ডিয়ার তরুন মুখোমুখি হয় সভ্য প্রগতিশীল সমাজের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভয়াবহ সত্যের সাথে। হঠাৎ তিনটি নাবালিকার অন্তর্ধান ও দুজনের মৃত্যুর খবর আসে থানায়। সত্যতা খুঁজতেই বেড়িয়ে একের পর এক লুকোনো তথ্য। অভিনয়ের দিক থেকে প্রায় প্রত্যেকেই নজরকাড়া। আইপিএস অফিসারের ভুমিকায় আয়ুষ্মান অনবদ্য। প্রতিটি ছবিতেই তাঁর স্ক্রিনপ্রেজেন্ট এক অন্য মাত্রা নিয়ে আসে।  সেই “ভিকি ডোনার” থেকে তিনি বুঝিয়ে আসছেন য...