দ্বিতীয় পুরুষঃ টুইস্টের চাপে হাঁসফাঁস করছে গল্পের লজিক

Image Source: Google

ছবির নামঃ দ্বিতীয় পুরুষ
পরিচালকঃ সৃজিত মুখার্জি
অভিনয়েঃ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্য,
রাইমা সেন, গৌরব চক্রবর্তী
রেটিংঃ ৩/৫

'কনফিডেন্স ভালো, তবে ওভারকনফিডেন্স একেবারেই ভালো নয়।' শেষ দৃশ্যটা দেখার পর মনে মনে ঠিক এই কথাটাই বললাম। কেন বললাম আসছি তার কথায়। তবে, বেশি বললে যে ফুরফুর করে স্পয়লার বেড়িয়ে আসবে।

ছবির প্লটটা মোটের ওপর এরকমই- সেই বাইশে শ্রাবণের জুনিয়র অফিসার অভিজিৎ পাকড়াশি (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়) এই 'বছরে পুলিশ হিসাবে বেশ জাঁকিয়ে বসেছে। সিরিয়াল কিলিংয়ের প্রায় অথোরিটি হয়ে বসে আছেন তিনি। কিন্তু তার পারসোনাল লাইফের কোন উত্তরণ ঘটেনি এই 'বছরে, বরং অবতরণ বললে ভুল হবে না। তবে সেন্স অফ হিউমারটা বেশ বেড়েছে। নয়তো দাম্পত্য কলহের মাঝে মাঝে কেউ পানিং করে? বাংলার ভাষার প্রতি প্রেম আর সাহিত্যের প্রতি টান বাড়ার একমাত্র কারণ তার গুরু প্রবীর রায় চৌধুরী (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বাইশে শ্রাবণ) এটুকু স্পষ্ট। একদিন এই পাকড়াশি বাবুর ডাক পড়লো এক নতুন কেসে। খবর আসে কলকাতার চিনেপট্টিতে পঁচিশ বছর আগের হয়ে যাওয়া একটি খুনের প্যাটার্ন রিপিট হচ্ছে, যার মাস্টারমাইন্ড বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে সদ্য জেল খেটে বেরনো খোকাকে (অনির্বাণ ভট্টাচার্য্য) তারপর সারা ছবি জুড়ে একের পর এক খুন, চিনে পাড়া, গ্যাংওয়ার আর চেসিং সিন যা নির্দ্বিধায় দেখতে খারাপ লাগবে না। গল্প এইটুকুই, বাদবাকি টুইস্টটা সিনেমা হলে গিয়ে দেখতেই ভালো (?) লাগে।

অভিনয়ে নাম্বার দিতে হলে প্রথমেই নাম আসে অনির্বাণের। এযাবৎ কালের যে কটা সিনেমাতে অভিনয় করেছে সেই চরিত্রের হয়ে গেছে সে। এই ছবিতেও তার নড়চড় হয়নি। চুলের কাট থেকে শুরু করে, চোখের চাহনি, বা ডায়লগ ডেলিভারি সবেতেই একটা "ক্যাওড়া" ব্যাপার স্পষ্ট। পরমব্রত অবশ্যই তার দক্ষতা অনুযায়ী তালে তাল মিলিয়ে লড়ে গেছে। অপরাধবোধে জ্বলতে থাকা মুহূর্তগুলো বা সিনিয়র পুলিশ অফিসারের সুচারু ভঙ্গিমায় সাবলীল সে। ছবির শেষে অনির্বাণ আর পরমব্রতর যে কথোপকথনের দৃশ্যটি রয়েছে সেখানে দু'জনেই দুজনকে প্রায় চ্যালেঞ্জের ভঙ্গিতে অভিনয় ছুঁড়ে মেরেছে। বাকি অভিনেতারা তেমনভাবে চোখে পরে না, বা বলা ভালো চোখে পড়ার মত অভিনয়ের তেমন সুযোগই পায়নি রাইমা, রিধিমা, গৌরব বা আবীররা। কিশোর খোকার ভুমিকায় ঋতব্রত অল্প সময়ে মাইন্ডব্লোয়িং। ছোট ভুমিকায় বাবুল সুপ্রিয় খারাপ নয়, তবে ডায়লগগুলো অমন ভুরু কুঁচকে বলছে কেন ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না।

স্ক্রিপ্ট এই ছবির একটা খুব বড় সম্পদ। "...জলটা একই থাকে, শুধু চোখগুলো বদলে যায়, চুমুগুলো একই থাকে, শুধু ঠোঁটগুলো আলাদা..."- হাল্কা মেজাজে বলা বেশ গভীর কথাগুলো দাগ কাটে। শচীনের স্ট্রেট ড্রাইভ, মিঠুনের ডান্স, বা সাহরুখ খানের অভিনয়ের রূপকগুলো তীক্ষ্ণতার সাথে ব্যবহৃত হয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর, সিনোম্যাটোগ্রাফ ভালো হলেও গানগুলো হতাস করার মত। একটা অন্যরকম মনস্তত্ত্বকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে এই ছবিতে যা একটু তলিয়ে দেখলে চোখে পড়ে যায় কিছু কিছু দৃশ্যে।

এবার আসা যাক অন্তিম টুইস্টে। একটা নয় দুটো টুইস্ট পাওয়া যাবে এই ছবির শেষে। একটা যদিও বা হজম হয় অপরটাকে জোর করে জেলুসিন দিয়ে হজম করাতে হয়, নয়তো এই ছবি এবং এর আগের ছবি (বাইশে শ্রাবণটেকনিক্যালি ইনঅ্যাকটিভ হয়ে যায়। টুইস্টে সৃজিতবাবু ফার্স্টবয় এটা দেখবেন বলে প্রেক্ষাগৃহে ঢুকলে টুইস্ট ভালোই লাগবে, নয়তো অবশ্যই গল্পের গরুকে আইফেল টাওয়ারে আবিস্কার করবেন। তবে, আমার মনে হয় ফার্স্টবয়ও কিন্তু মাঝে মাঝে মানে না বুঝে নাম্বার তোলার চক্করে মুখস্থবিদ্যার আশ্রয় নেয় যা গোটা উওরটাকে অযৌক্তিক করে তুলতে পারে।।

Comments

Post a Comment