প্রতিশোধ নয়, বদলা আসলে অভিনয় ও বুদ্ধিমত্তার পারফেক্ট কেমিস্ট্রি

Image Source: Times of India


প্রথমের বলে রাখা ভালো “বদলা” ২০১৬ তে মুক্তি পাওয়া স্প্যানিশ বক্সঅফিস কাঁপানো সিনেমা “দ্যা ইনভিসিবল গেস্ট” ছবির অফিশিয়াল রিমেক, এবং এটি আমার রিসার্চের ফলাফল নয় সিনেমার শুরুতেই সুজয়বাবু নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন; অতএব, কপি কপি করে মাতামাতি করার কিছু নেই।

ছবিটির আসল প্লট লন্ডনের একটি ফ্ল্যাটের ড্রইংরুমে। ছবি শুরুর মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই এটুকু পরিস্কার হয়ে যায় যে নয়না শেট্টি ওরফে তাপসী পান্নুর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ রয়েছে, এবং তাঁর হয়ে আইনি লড়াই লড়তে আসেন বাদল গুপ্ত ওরফে অমিতাভ বচ্চন যিনি তাঁর চল্লিশ বছরের আইনি ক্যারিয়ারে একটি কেসও হারেননি। তারপর, পুরো সিনেমা জুড়ে চলে টানটান উত্তেজনা। ছবিতে দুটি খুনের ঘটনা রয়েছে যেদুটি অবশ্যই একে অপরের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত।  এসবের মধ্যেই চলে আসে দুই প্রৌঢ় দম্পতি রানী ও নির্মল এবং ঘটনার এক অন্যতম অংশ হয় যায় এঁরা। বাকিটা জানতে হলে প্রেক্ষাগৃহে যেতে হবে।

চলে আসি অভিনয়ের কথায়। “পিঙ্ক”-এ তাপসী-অমিতাভের সেই সাবলীল জুটির পর এই দুজনকে একসাথে অনস্ক্রিন দেখার আগে যে এক্সপেক্টেশন তৈরি হয়, তার অন্যথা হয়না এই ছবিতে। যতটা দক্ষতা অমিতাভ দেখান বাদল গুপ্তা চরিত্রে ঠিক ততটাই সঙ্গ দিয়ে গেছেন তাপসী। কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও ছাড়েনি। বাদল গুপ্ত যতটা সংযমী, ঠিক ততটাই ব্যাক্তিত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, বেস্ট বিজনেস উইম্যান অ্যাওয়ার্ড পাওয়া নয়না ঠিক ততটাই সুচারু।  অনেকদিন পর রুপোলী পর্দায় দেখা যায় অমৃতা সিংকে। লন্ডনে বসবাসকারী এক মধ্যবয়স্কা হাউসওয়াইফের ভূমিকায় মাতিয়ে দিয়েছেন তিনি। খুব ছোট্ট ভূমিকায় মানব কৌল যথাযথ।

পুরো ছবিটিতে মহাভারত একটা বেশ আশ্চর্য ভূমিকা পালন করেছে যা আমার মত মহাভারতপ্রেমীদের হয়তো বিশেষভাবে নজর কাড়বে। সঞ্জয়- ধৃতরাষ্ট্র হোক বা কৃষ্ণ-অর্জুনের প্রসঙ্গ বেশ উল্লেখযোগ্য ভাবে রয়েছে । ঠাণ্ডা অথচ অর্থবহ ডায়লগ- ‘মহাভারত আসলে দ্রৌপদীর প্রতিশোধের ফল’ এই ছবির মূলমন্ত্র বলা যেতে পারে।

সুজয় ঘোষের আঁটসাঁট চিত্রনাট্যর সাথে অভীক মুখোপাধ্যায়ের অসাধারণ সিনেমোটোগ্রাফি একটা অদ্ভুদ কেমিস্ট্রি তৈরি করেছে। এই ছবির আর একটি বিশাল প্লাস-পয়েন্ট বলিউডি কায়দা ধরে রাখার জন্য কোন গান রাখা হয়নি। এতকিছু ভালো দিকের মধ্যে একটাই একটু খটকা, লন্ডনে থেকেও চরিত্ররা বেশ ভালই হিন্দি বলে। সারা ছবি জুড়ে এতো ইদুর-দৌড়ের পর যখন মনে হয় ক্লাইম্যাক্স এসে গেছে আর আপনি সিট ছাড়বেন ছাড়বেন করছেন ঠিক তখনি পাবেন আসল ক্লাইম্যাক্স।

সবশেষে এটুকুই বলার বদলার আগুন ভিক্টিমকে কতটা পোড়াল সেটার চেয়েও বড় কথা দর্শকের চেয়ারে আপনি দমবন্ধ করে বসে থাকবেন এই দুঘণ্টা।।

Comments

Popular posts from this blog

9 Types of Bengalis You Will Surely Find in a Durgapuja Pandal

৭ জন সমসাময়িক অনুপ্রেরনীয় নারীদের সাফল্যের গল্প

কণ্ঠঃ ভাঙা ছকের কথোপকথনে নিস্তব্ধতার শব্দ