GULLY BOY: গলি নয়। সমস্ত স্বপ্নালু চোখের রাজপথ


ট্রেইলার দেখার দিন থেকেই ইচ্ছে ছিল ছবিটি দেখার, তবে রিলিজের তৃতীয় দিনই তা দেখবো আশা করিনি। ঢোকা যাক সিনেমায়। মুম্বাইয়ের ধারাভি বস্তির প্রত্যন্ত ১৭ নাম্বার গলির ড্রাইভারের ছেলে মুরাদের মনে মনে র‍্যপার হয়ে ওঠার গল্প।তারই ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দেয় প্রেমিকা সাকিনার সেই একই সামাজিক ট্র্যাপে পড়ে যাওয়ার গল্প। গল্পের ছকটা খুবই চেনা, আ জার্নি ফ্রম মুরাদ টু গলিবয়। হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়া র‍্যাপার এমসি শেরের হদিস পাবার পরই ঘুরে যায় মুরাদের জীবন। দারুন এক সততা রয়েছে এই বন্ধুত্বপূর্ণ গুরু-চ্যালার সম্পর্কে, যেটা অনস্ক্রিন দেখতে একটুও বাড়াবাড়ি লাগবে না।

চলে আসি অভিনয়ে। মুরাদের ভুমিকার রনবির সিং অসাধারণ। তেমনই অসাধারণ গলিবয় হয়ে ওঠার পরের চরিত্রটিকে- যে কিনা সমস্ত শরীর দিয়ে কষ্টকে ফুটিয়ে তুলতে পারে তার লেখনী ও মিউজিকের মাধ্যমে।সিনেমার প্রায় শেষের দিকের সিগনেচার র‍্যাপ “আপনা টাইম আয়েগা”-র প্রায় দুরন্ত এক্সপ্রেসের স্পীডে গাওয়া গানটা দেখনে মনে হতেই পারে এই লোকটা হয়তো গত পাঁচবছর ধরে র‍্যাপ ছাড়া আর কিছুই করেননি।হিরো রনবির সিং ছাড়া আর যদি কেউ মন কেড়ে নেয় সে সিদ্ধার্থ চতুর্বেদী, যে এমসি শেরের ভুমিকায় একেবারে কাঁপিয়ে দিয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় রনবিরের আগেই সে নজর কেড়ে নিয়েছে। একটা পসেসিভ গার্লফ্রেন্ডের উদাহরণ দিতে বললে আপনি নিঃসন্দেহে বলবেন সাকিনা, যদি আপনি এই সিনেমায় আলিয়া ভাটকে দেখে থাকেন। বয়ফ্রেন্ডকে সাপোর্ট করতে যা যা মিথ্যে বলতে হয় সবই বলেছে সে। চরিত্র অনুযায়ী আলিয়া যথাযত। মুরাদের বাবার চরিত্রে বিজয় রাজ হয়ে উঠেছে সেই টিপিক্যাল নিম্ন মধ্যবিত্ত বাবা যে স্বপ্ন দেখা ছেলেকে ভালবাসলেও, তার স্বপ্নের ভার বহন করার ক্ষমতা রাখেনা বলে বড় অসহায়।  মুরাদের বন্ধু মইনের চরিত্রে বিজয় বর্মা বেশ ভালো। ছোট্ট চরিত্রে কাল্কি কোচলিন বেশ সুন্দর, যদিও আমার মনে হয়েছে সেই অংশটুকু না হলে ছবিটার কিচ্ছুটি যেত আসত না, উল্টে একটু নির্মেদ হতো হয়তো।
  
গান অথবা র‍্যাপ, সবকটাই মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। “আসলি হিপহপ”, “আপনা টাইম আয়েগা” তো নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই সঙ্গে সঙ্গে “মেরি গলি”, আর “দুরী"-ও ভালো লাগার মতো। এই ছবির র‍্যাপ গুলো শুনতে শুনতে এতোটা নিজেকে ভাসিয়ে দেবেননা যে লিরিক্সের দিকে কানই না যায়, কারন এটি এই ছবির বিশাল বড় সম্পদ। 
   
সিনেম্যাটোগ্রাফি মোটের ওপর বেশ ভালো। মধ্যান্তরের ঠিক আগের মুহূর্তের সিনেম্যাটোগ্রাফি অনেক কিছুর আভাস রেখে যায়। স্কাইয়ের এলাহি বাথরুমে ঢুকে মুরাদের পা মাপার দৃশ্যটা ছোট, অথচ গভীর। এই ছবির আর একটা ভালো দিক- বলিউডি কায়দা আনতে গিয়ে অহেতুক কোন হিরো-ভিনেলের কনসেপ্টকে প্রশ্রয় দেয়নি।
  
একটা ওয়ারনিং দেবো। গায়ে হাতেপায়ে ব্যাথা থাকলে এই সিনেমা দেখতে যাবেন না, কারন চুপচাপ বসে দেখার মতো ছবি এটি নয়।।

Comments

Popular posts from this blog

সমান্তরাল মানে ছুঁয়ে থাকা

দ্বিতীয় পুরুষঃ টুইস্টের চাপে হাঁসফাঁস করছে গল্পের লজিক

Game of Throne S08, S03: কি ভীষণ যুদ্ধ, ভয়, মৃত্যু, সাহসিকতা, সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন (spoiler free)